পান্থ জনের সা!

»শাল্হত্দন্সেম্ত্র না

আবু সয়ীদ আইয়ুব

2.

১২?

] শটে ১. পো 4). রি 25 0১. ০৬: রে”

দে'জ পাবলিশিং কলকাতা

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯৩৩

প্রচ্ছদ শিল্পী : পূর্ণেন্দু পত্রী

ঘাম: বার টাকা

প্রকাশক £ সুধাংগ্ুশেখর দে, দে'জ পাবলিশিং, ৩১।১বি মহাত্ম। গাদ্ধি রোড, কলকাতা *৯। সুস্্ক : রতিকাস্ত ঘোষ, দি সত্যনারায়থ প্রিন্টিং ওয়ার্কস, ২*৯এ বিধান সরণি, কলকাতা *।

সচিপত্র

সুচনা রবীন্দ্রনাথের ছুঃখের গান পল্পের মাঝখানে বজ্ সখেব লথ্মঃ দুর্লভ প্রেম প্রেমের ছুই রূপ চগ্ডালিনীর ঝি রাজেন্দ্রনন্দিনী পাস্থজনের সখা তব চরণতলচুস্বিত পন্থবীণ মনের মানুষের সন্ধানে পদধ্বনি, কার পদধ্বনি শুধু ধূলি, শুধু ছাই

৩৪ ৭৩৬ ৪৯০

৮২৮

পান্নালাল দাশগুপ্ত স্থহৃদ্বরেষু

এমন অপরাক্তিত বীধের সম্পদ,

এমন নিভীক সহিষুতা,

এমন উপেক্ষ। মরণেরে,**"

সাথে সাথে, পথে পথে

এমন সেবার উৎম আগ্নেয় গহ্বর ভেদ করি অফুবরান প্রেমের পাথেয়

বর্তমান লেখকের বই £ আধুনিকতা*ও রবীন্দ্রনাথ, দে'জ পাবলিশিং, 40669 27527118850: 0015615165,

সুচনা “পান্থ তুমি, পাস্থজনের সখা হে”

. এই গানে এবং আরে কয়েকটি গানে রবীন্দ্রনাথ নিজেকে “পাস্থজন” “পথিকজন”, “পথিকপরাণ” ব৷ শুধু “পথিক” বলেছেন। খুব নতুন কথা নব এট1। সাধু- উৈস্তরা, আউল-বাউলরা, সুফী-দরবেশরা, মরযিয়া কবিরা নিজেদেরকে চরম প্রেমের করুণ-রঙিন অথচ প্রাণাস্ত-কঠিন পথের পথিক ব'লে জেনেছেন বহুকাল যাবৎ | “পথের শেষ কোথায়, কী আছে শেষে” _ ভেবে না-পেয়ে মাঝে-মাঝে রবীন্দ্রনাথ অবশ্য আকুল হয়েছেন, এমন মর্মাস্তিক সংশয়ও মনে জেগেছে যে তার ঈশ্বর-তৃষণ! বুঝি মিটবে না! কোনোদিন, মরুপারে দূর দ্রিগন্তে বার আভাস দেখে তিনি পথে বেরিয়ে পড়েছিলেন তা৷ মরীচিক৷ ছাড়া আর কিছু নয়। কিস্ত এমন পুস্তিম নৈরাহ)। +৮২ই তার মনকে আচ্ছন্ন করেছে। গীতাঞ্জলি” পর্বে তিনি প্রশাস্তই ছিলেন, পথশেষের কথ! না-ভেবে পথকেই ভালোবেসেছেন, গান গেয়েছেন - “পথে চলা, সেই তো তোমায় পাওয়11” এই গানের প্রথম ছুটি পঙক্তিতে হাফিজের ছুটি পঙক্তির অনুরণন শুনতে পাই আমি-_ “পথিক্দের পথক্লান্তি নেই / প্রেম পথও বটে, গন্তব্যও ( মন্জিলও ) বটে ।” আমাদের পরিচিত মরমিয়া সাধকরা কিন্তু প্রায় সবাই একই সাধনমার্গ ধরে ঈশ্বরের দিকে এগুতে প্রয়াসী হয়েছেন সমস্ত জীবনভরে | পক্ষান্তরে, রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বরভাবনা তৎসংশ্লিষ্ট ধ্যানধারণ মার্গ থেকে মার্গীক্ক্টর চ'লে গেছে একাধিকবার _ এক ধর্মসমাজ থেকে আর-এক ধর্মসমাজে, তারপরে একলা পথে কখনো মগ্ন হ'তে চেয়েছেন ব্যক্তিস্বরূপ জীবনন্বামীতে, কখনে। নৈর্ব্যক্তিক বিশ্বজাগতিক সত্ব অর্থাৎ ভূমাতে, কখনে। দীক্ষা! নিতে চেয়েছেন নটরাজ শিবের কাছে, কখনে। চিরমানবের বেদীতে পুষ্পার্ধ্য সাজিয়ে দিয়েছেন, কথনো৷ অম্মত- ভরা মুহূর্তে ধরতে চেয়েছেন শাশ্বতকালের মহিমা এমন বৈচিত্র্যময় অথচ প্রত্যেকটি সাধনায় নিবিষ্টপ্রাণ সাধকের দৃষ্টান্ত সহজে খু'জে পাওয়া যায় না। তাই তিনি যখন নিজেকে পাস্থজন বলেন তখন পূর্ব-সাধকদের সঙ্গে তার তুলন।

টি

খানিকটা বিভ্রাস্তিকর। কাব্যে গানে নাটকে ব্যক্ত বা আভামিত আশা- নিরাশায় দোছুল্যমনি এই পথিকহদয়ের কিছু পরিচয় দিতে চেষ্টা করেছি বইয়ের নামপ্রবন্ধে এবং অন্যান্ত গ্রবন্ধেও।

স্বভাবতই কবি রবীন্দ্রনাথের যাত্রার নারীপ্রেম থেকে যতই তিনি এ-প্রেমকে স্ুন্দরতর পূর্ণ তর করতে প্রয়াসী হলেন, ততই উপলব্ধি করলেন রোম্যার্টিক প্রেমের অস্তমিহিত অপূর্ণত। _ প্রেমানুভূতির অপূর্ণতা এবং প্রেম- ক্পর্দের অপূর্ণতা “গীতাঞ্জলি'তে কি তিনি পেলেন পূর্ণ প্রেমের পূর্ণ পাত্র (061500০৮1০৫ ০৫ 916০0 10৬০, )? কিছুকাল (ন্যনাধিক এক দশক কাল ) তা-ই ভেবেছিলেন তিনি, কিন্তু বেশিদিন ধ'রে রাখতে পারেননি এই প্রশাস্ত মধুর ভাবাবেশ।' ভাবাস্তর ঘটালে। প্রথম মহাযুদ্ধ ; “বন্দরের কাল হল শেষ” নোঙর তুলতে হ'লো। পাড়ি জমাতে হ'লো। অজান। সমৃত্রে, ঝড়- ঝঞ্চার মাঝখানে পৌছলেন তিনি মানব-দেবতার মন্দিরে : “হে মানব, তোমার মন্দিরে দিনান্তে এসেছি আমি” ; জানালেন এখানেই যাত্রাশেষ। কিন্ত শেষ কোথায়? “পরিশেষ'-এর পরে আছে “পুনশ্চ” তার পরেও বিরাম নেই ছুঃসাহসিক নাবিকের সামৃত্রিক অভিযানের আরো! কত নতুন দেশের, নতুন কালের সৈকতে লাগতে তার তরী, কে বলতে পারে মৃত্যু এসে যাত্র। থামিয়ে দিলে যেন মাঝপথেই আকাশের দিকে চেয়ে বলতে ইচ্ছা হ'লো। _ অমবতপাত্র কি এমনি ক'রে ভাঙতে হয়? “বিধাতা আপন ক্ষতি করে যদি ধার্য” কিন্তু কেন? জড়প্রকৃতির নিয়মশঙ্খল। কি এতই ইম্পাতকঠিন যে বিধাতাও তা ভাঙতে পারেন না? ূ্‌

অথচ এই মৃত্যুগ্রাসিত অফুরস্ত-যৌবন কবির ষাট বছর ধ'রে কাটা ফসলের এক বিপুল অংশ তুলে নিয়ে সোনার তরী ব'য়ে চলেছে কালপ্রবাহে। তাই, কী পাইনি তার হিসাব না-মিলিয়ে, কী পেলাম তারই পুনঃপুনঃ বিচার করতে হবে আমাদের কোনো-কোনো৷ দিক থেকে রবীন্দ্রসাহিত্য পূর্বতন মূল্য হারিয়েছে ; আবার অন্যদিক থেকে নবযুগোচিত মূল্য সঞ্চয় করেছে ততোধিক। অনিত্য জগৎ জীবনে কাব্যবিচারের মাপকাঠিও স্বভাবতই পরিবর্তনশীল তবে জামাকাপড় গয়নাগাটি দাঁড়িগোফের ফ্যাশানের মতো! বছরে-বছরে সাহিত্যের মূল্যায়ন বদলরখলৈ আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনে সর্বনাশ ঘটবে

মহতম খূলোর পুনবিচারে, 75৮৪13861012-এ, আমাদের ধৈর্য রাখতে হবে, স্থবিরতা বর্জন করতে হবে ধাবমান সাহিত্যিক ফ্যাশানেয় পিছনে না-ছুটে পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে সেই ছুরূহ “মঝ.ঝিম পন্থা* ধ'রে হাটতে চেষ্ট। করেছি।

নিজেকে “পাস্থজন” বলাতে নতুনত্ব না-থাকলেও পরমেশ্বরকে “পান্থ” বলাতে নৃতনত্ব আছে কিছু পরষেশ্বর পথের কষ্ট স্বীকার করেছেন কিসের জন্য, কিসের সন্ধানে? তাঁর তো কোনে! অভাব বা! অপূর্ণতা! নেই, তিনি তো অনব, পরাকাষ্ঠা, 26:6০০৫ 06108 উপনিষদ যখন তাঁকে সত্যম বলেন তখন পূর্ণ পরোতকষ্ট সত্ব অর্থেই বলেন, নইলে একটি তৃণখণ্ডও তো! আপন অকিঞ্চিংকরত। নিয়ে সত্য তাই প্রশ্ন জাগে- শাস্্রমতে এবং প্রচলিত বিশ্বাসাহুযায়ী যিনি সবদিক দিয়ে পরিপূর্ণ, তিনি আবার পান্থ কেন?

শ্রীকৃষ্ণ অজুনিকে বুঝিয়েছিলেন : “ত্রিভুবনে আমার করণীয় কিছু নাই, প্রাপ্য ব৷ অপ্রাপ্তব্য কিছু নাই, তথাপি আমি কর্মেই ব্যাপৃত আছি লোকসংগ্রহার্থে এবং মানবসকলের দৃষ্টান্তস্থল হইবার জন্য ।” রবীন্দ্রনাথ কি সেইরকম কিছু স্কোবাতে চোয়ুহ- “পাস্থ তুমি” ব'লে? রাধাকুষ্ণন্‌ “লোকসংগ্রহ”-এর অনুবাদ করেছেন “10917706081)05 006 ৬011” জগদীশচন্দ্র ঘোষের অন্কবা্দ “লোকরক্ষা” কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মনে যে-ছবিটি সর্বদা উজ্জল ছিলে তা বিশ্বজগতের খিডঈীলভার নয়, গতিশীলতা বিবর্তনোন্ুখতার | তাই তার ভাবপ্রকাশের জন্য ঈশ্বরের বিশেষণ হিসাবে “কর্মব্যাপূত' অপেক্ষা! “পান্থ শব্দটা অধিকতর উপযুক্ত

আর-একটি বৈশিষ্ট্য _ রবীন্দ্রনাথের চোখে জগৎ এবং জগদীশ্বরের ষধ্যে দূরত্ব বা পার্থক্য তেমন স্পষ্ট নয় যেমন ছিলো গীতাকারের চোখে না"পাকারই কথ।। কারণ রবীন্দ্রমানসে গীতার চেয়ে উপনিষদদের স্থান অনেক বেশি প্রশস্ত। ঈশোপনিষদের প্রারভেই বল! হয়েছে যে সমস্ত জগৎ-চরাচর ঈশ্বরের দ্বার! আচ্ছাদিত ঈশ্বরের ছ্বার। “্থষ্ট', 'শাসিত” ব! “নিয়ন্ত্রিত? না-বলে “শাহিন? (কিংবা 'আচ্ছাদ্দনীয়" _“বাস্তম্, ) বলাতে অত্যন্ত নৈকট্য ঘনিষ্ঠতা বোঝায় তবু “আচ্ছাদন” “আচ্ছার্দিত”-এর মধ্যে যেটুকু ছিত্ব রয়েছে তার দিকে নিশ্চয় ঈশোপনিষদ ইঙ্গিত করছেন না; বক্তব্য এই নয় যে ঈশ্বর স'রে গেলেও জগৎ থাকবে, যেমন ঢাক! তুলে নিলেও ফলভরা থাল৷ থাকে; অথবা! জগৎ না-

খারুলেও ঈশ্বর থাকবেন। বাংল৷ অঙ্বাদে ঈশ্বরের দ্বারা অস্থৃপ্রবিষ্ট' বললে সম্ভবত আরে। সঠিক অর্থ পাওয়া। যাবে কিংবা যদি বলি জগৎ্-চরাচর ঈশ্বরময়, এধং সেই বিচারে এখর্ধবান (০08186ণ 10) ৮৪106 )।

পরম পাস্থকে “পান্থজনের সখা” বলার অন্যতম ইঙ্গিত কি এই নয় যে রবীন্দ্রনাথের মতে! ধার। মনে-প্রাণে পাস্থজন তাদেরই সখা তিনি, ধারা চিরা- চরিত কোনো ধর্যানুষ্ঠানের পায়ে নিজের স্বাধীন বিচারবুদ্ধি ইচ্ছাশক্তি প্রত্যর্পণ ক'রে প্রাচীনযুগের খু'টিতে নিজেকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে জড়ভরত হয়ে ব'সে আছেন, তিনি তাদের সখা নন?

আমি অবস্থ বর্তমান গ্রন্থের নামকরণে বিশেষণ-পদের দ্বারা রবীন্দ্রনাথকে বোঝাতে চেয়েছি, নিজেকে অন্যতম পাস্থজন জ্ঞান ক'রে। যে-ধর্মসমাজ ধর্মবিশ্বাসের আশ্রয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলাম তাতে একপ্রকার শাস্তি, সুরক্ষা নিরাপত্ত। ছিলো সেই আরামের ভিটেবাড়ি ছেড়ে বনজঙ্গলের মাঝখান দিয়ে খানাখন্দ পার হ+য়ে পাহাড়-পর্বতের উপর দিয়ে, কখনো-বা! উপত্যকার গুমোট অন্ধকারের ভিতর দিয়ে অজানা আকাট! পথে বেরিয়ে পড়ার ক্লেশ, ভয়, বিপদ, ক্ষীণায়মান আশা! এবং ঘনায়মান নৈরাশ্ের কথা ভৃক্তভোগীই জানেন তবে রবীন্দ্রনাথের মতন অত নিবিড়ভাবে অমন সর্বাস্তঃকরণ দিয়ে আর কেউ জেনেছেন ব'লে তো৷ মনে হয় না। কীর্কেগার্ডের হৃদয়যন্ত্রণ৷ অবশ্য আরে ছুঃসহ ছিলো।। কিন্ত সে তীব্র যন্ত্রণার কশাঘাতে তার মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে গেলে। | ধর্মভাবনায় বুদ্ধি যুক্তির সমূহ প্রত্যাখ্যান এবং উদ্ভটের প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণ তার মনৌ- রোগেরই উপসর্গ বর্তমানকালের অযৌক্তিকতাবাদের মন্ত্রদাতা তিনি। টি এস, এলিয়ট ভয়াবহ চিত্র জাকলেন খরাগ্রস্ত আধুনিক জীবন জগতের তার পরে নিজেই ভয় পেয়ে পালিয়ে গেলেন এই “ওয়েস্ট, ল্যাণ্ড,১? থেকে, আশ্রয় খু'জলেন মধ্যযুগের চার্চতন্ত্রে রাজতন্ত্রে। তার ধর্মজিজ্ঞাসা ছিলে! সাহিত্য-সৌখিন এবং আত্মনির্ভরতাশৃন্য রবীন্দ্রমানস থেকে ছু-জন মনীষীর আধ্যাত্মিক দূরত্ব অনেকখানি _ শুধু দেশগত নয়, কালগতও বটে। রবীন্দ্রনাথ এ-যুগেরই মানুষ, এই পৃথিবীরই কবি। .

শীতাঞ্জলি'র অনেক গানে. আমরা শুনেছি তিনি আসছেন-_ “আমার মিলন লাগি. তুমি আসছ কত্ত থেকে” $ “যুগে যুগে পলে পলে দিনরজনী / সে যে

চি.

'আসে, আসে”; ইত্যাদি কিন্ত আলোচ্য গানে “পা্থ তুমি” এই অর্থে বল। হয়নি। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে ভক্ত যে-দিকে চলেছে ভগবানও সেই দিকে চলেছেন। এই গানে তিনি প্রেমিক নন, সহযাত্রী ; উদ্দেশ্য মিলন নয়? সাধন কী তার সাধনা?

“্থষ্টি যে অপূর্ণ” _ রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন ১৩১৪ সালে লেখা “ছুঃখ” শীর্ষক প্রবন্ধে ; কিন্তু কী বিরাট ভয়ংকরভাবে অপূর্ণ তা উপলদ্ধি করলেন আরো! সাত বছর পরে, প্রথম মহাযুদ্ধের পটভূমিকায়। তার পর থেকে অংকুরিত হ'তে দেখা যায় আর-একটি উপলব্ধি -এই অপূর্ণ স্থষ্টিকে পূর্ণ ক'রে তোলার দায়িত্ব মানুষেরই | সৃষ্টির অপূর্ণতা শ্রষ্টাতেও বর্তায় আগেই বলেছি রবীন্দ্রনাথের চোখে ্রষ্ট। স্থপ্টি একই পরম সত্তার ছুই ভিন্ন রূপ। অর্থাৎ পূর্ণতার পথে মানুষ যেমন পান্থ, ভগবানও তেমনি মানুষের কর্মক্ষেত্র মানবসমাজে সীমিত, ভগবানের কর্ম অনন্ত দেশ-কালে পরিব্যাপ্ধ। অন্র্দিক দিয়ে অবশ্য তিনি পূর্ণ হয়েই আছেন মহাকালে, সাক্ষী-চৈতগ্যরূপে | তার কথা “ছুধু ধূলি, শুধু ছাই” অধ্যায়ে

'বলেছি।

“ধর্ম সাহিত্য” শীর্ষক প্রবন্ধে টি. এস. এলিয়ট যে-ধর্মবোধকে সাহিত্যের পক্ষে অপরিহার্য বলে ঘোষণা! করেছেন তার মোদ্দা কথ! হচ্ছে প্রাকৃত অতিপ্রারুতের মধ্যে স্পষ্ট ভেদরেখ! টেনে অতিপ্রাকৃতকে মৌলিক চরম জ্ঞান কর। (47010105305 096 31060080018] ০0৮6 0১612800181) )1 হেন বিশ্বাসের অবক্ষয়ের মধ্যেই মেকুলারিজমের সংজ্ঞ! খুঁজে পেয়েছেন তিনি, এবং বলেছেন আধুনিক সাহিত্য প্রায় সবটাই সেকুলাব, কাজেকাজেই.লঃ ভ্রষ্ট। এই এলিয়ট-নিন্দিত অর্থে রবীন্দ্রনাথ 'সেকুলারিস্ট' কবি। মোটর উপর যে-মত ভাবাবেগ তার স্থষ্টিকর্মকে অন্ুপ্রাণিত করেছে ত। বিশ্বাতিগ ঈশ্বরে বিশ্বাস নয়; মোটের উপর রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরকে দেখেছেন এবং ভালোবেসেছেন মান্য প্রকৃতির মধ্যেই সেখানে যখন তার পরাণসথাকে দেখতে পাননি তখন উষা-দ্িশা-ারা বোধ করেছেন তিনি, চারিদিকে ঘুটখুটে অন্ধকার দ্বেখেছেন ; নিজের অন্তরের গোপন কবিপুরুষকে মিনতি ক'রে বলেছেন : “তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, / এখনি অন্ধ, বন্ধ কোরে! না পাখা” কখনো, ক্চিৎ কখনো, এমনও হয়েছে বে মানুষের মধ্যে ঈশ্বয়ে্স প্রকাশ বিলুপ্ত বোধ ক'য়ে,

দুঃখ পাপের বিরাট বিকট চেহার। সহ করতে না-পেরে, প্রকৃতির রডে-রূপেই ঈশ্বরের, স্বাক্ষর খুঁজেছেন আমাদের গ্রকৃতিগ্রেমিক ঈশ্বরভক্ত কবি। কিন্ত মানুষের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে কি রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ থাকতে পারেন, কোনে! কবি কবি থাকতে পারেন? বেশিদিন পারেন না।

বিশ্বত্রষ্টার কথ। ভূ'লে গিয়ে যদি বিশ্বত্রক্াণ্ডের কথা ভাবি তাহ'লে বিস্ময়ে স্তপ্ভিত হ'য়ে যাই আমর! আকাশে-আকাশে যে কোটি-কোটি নীহারিকা-নক্ষত্র নিয়ে আন্ড 7 খেন। চলছে কয়েক শত কোটি বৎসর ধ'রে, তারি মাঝখানে অস্তত একটি নক্ষত্রের একটি গ্রহে জন্মলাভ করেছে প্রা, প্রাণ থেকে মন, মন থেকে আত্মা _- এটা, কেমন ক'রে সম্ভব হ'লে? এ-সবই কি হ্যষ্টির প্রথম দিনে ( আজ-কাল জ্যোতিবিজ্ঞানীরা আদি স্থষ্টির ক! বলেন, সময় নির্দেশ কর। হয় পাচ শ' কোটি থেকে হাজার কোটি বৎসর পূর্বে) আকাশময় সমানভাবে ছড়ানো জ্যোতির্কণা জড়কণার মধ্যে নিহিত ছিলে সম্ভাবনারূপে, জ্রণরূপে - যেমন জরারুর একটি নিষিক্ত ভিন্বাণুর মধ্যে ক্রমজোম-বিম্যাসের সাংকেতিক ভাষায় লেখা থাঞ্জে পরিণত-বয়স মান্থুষের দেহের অনেক-কিছু, মনেরও অল্প-কিছু ? না-কি বিশ্বের বিরাট নিরর্থক ঘটনা প্রবাহে মানুষের জন্ম বিকাশ ঘ'টে গেলে! নিতাস্তই অকম্মাৎ, বাই চান্স্‌? যেমন এক প্যাকেট তাস নিয়ে সারাদিন লক্ষ- লক্ষ বছর ধ'রে ফেটাতে থাকলে একবার এমন বিন্ন্ত প্যাক পাওয়া! খুবই সম্ভব, নিশ্চিতও বল। যেতে পারে, যাতে চারটি রঙ আলাদা হ'য়ে গেছে এবং প্রত্যেকটি রঙ টেক্কা-ছুরি-তিরি ক'রে সাজানো অথবা যেমন ঘটতে পারে কোনে। বাদরের ফুৎকারে একটি উত্তম রাগিণীর স্বরসংযোগ :

”10061৬ আ৪৪ 0505 &. 08105 0800018 ৬৬1১০ ৪1855 0106৫ ৫0 & 088$00], ঢ0: 106 585৫ : 1 81006818 71886 10 0111101050৫ 96818 ' 80811 ০01:5915 016 0 0106.

বেবুন ন! ভগবান, দৈবাৎ ন! দৈবী ? “ভগবান'এএর চলতি অর্থ মনে রাখলে এ-শবটা ব্যবহার করতে ভুঁঠ। বোধ করি আমি? কিন্তু সমগ্র বিশ্বরগতের, বিশেষত প্রাণীজগতের। অপ্রতিরোধ্য ক্রমবিবর্তনের কথা ভাবলে যে অপার

রহশ্তবোধে ভ'রে ওঠে আমার মন, তার কী নাম দেবে! ? শেষ অবধি ধ্বংসের মুখোমুখি আমর] নই ; সব প্রতিকূল শক্তিকে ঠেলে, সব সামগিক অধঃপতন সত্বেও “মানবধাত্রী” এগিয়ে চলেছে মঙ্গলের দিকে, সুন্দরের দিকে অভি ধীরমন্থর গতিতে _ রবীন্দ্রনাথের এ-বিশ্বাস আমাদের অনেককেই (মার্কস্‌ কিংবা জওয়াহরলালের মতো৷ বিঘোষিত নান্তিককেও ) অন্নপ্রাণিত করে ঈশ্বরে বিশ্বাস একে বলবে! না, তবে ঈশ্বরবাদ থেকে যতট। দূরে এর মানসিক স্থিতি, জড়বাদ থেকে তার চেয়ে বেশি দূরে

পরম পাস্থ চলেছেন যে-পথে সেটা নিশ্চয়ই সকল রাজপথের সের! রাজপথ, সকল মানুষের অনুসন্ধেয়, সকল আলনুষ্ঠানিক ধর্মে প্রার্থনার অঙ্গীভূত | যত পবিত্র মহান হোকু সে-পথ, তবু তা অতিশয় বিস্র-সংকুল। জড়প্রকৃতির, এবং জীবপ্রকতিরও, অব্যতিক্রম নিয়মশৃঙ্খলাই ভগবানের সম্মুখে বিশ্লরূপে উপস্থিত। তিনি এখনই সব ব্যাধির নিরাময়, সব ছুঃখ পাপের অবসান ঘটাতে পারেন না। বিশ্বপ্রকৃতির নিয়ম অকাট্য, নির্যম। বিশ্বরাজার পতাকায় পদ্মফুলের মাঝখানে বজ্র চিহ্নিত রয়েছে। পদ্ম সাধুসজ্জনের জন্ত এবং বজ্র কেবল অসং লোকের জন্য -_ এমন কোনে! অঙ্গীকার নেই তাতে 'রাজা, নাটকের ঠাকুরদার মতো নিফলুষ সাধুপুরুষের মাথার উপরও বাগ পড়ে » পর- পর তার পাচটি ছেলে মার যায়।

প্রকৃতির সব নিয়ম জেনে এবং দরকারমতো। কাজে লাগিয়ে মানুষকেই ধীরে- ধীরে লক্ষ-লক্ষ বৎসরের অক্লান্ত অপরাজেয় তপশ্যায় আপন জৈবপ্রবৃতিগুলিকে বশীভৃত ক'রে আপন পাপক্ষয় ছুঃখলাঘব করতে হবে। সুন্দর ফুন পাখি জ্যোতক্সানিষ্ক সমূদ্রসৈকত বিধাতাই স্থটি করেছেন, প্রাকৃতিক নিয়মতঙ্তরের অমোঘ পরিণাম তারা কিন্তুস্থন্দর সমাজের কাঠামোয় হুন্্ব ব্যক্তিজীবনের বিকাশ মানুষেরই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি হষ্টিশক্ির যথোপযুক্ত পরিণতির উপর নির্ভরশীল। প্ররুতির নিয়মের জালে মান্য একদিক দিয়ে বীধা, অন্দিক দিয়ে স্বাধীন, অন্তত অংশত স্বাধীন, ইচ্ছাশক্তির অধিকারী ; নইলে শ্রেয়োনীতিক দায়িত্ব (120018] 75801251118 ) কথাটা অর্থহীন হয়ে যায়| এক বন্ধ প্রাচীন, বহু জটিল দার্শনিক সমস্যা $ এখানে তার অবতারণা! সম্ভব নয় |,

যরুতে কর্কট রোগ হয়েছে ছোট্ট ছেলের, যন্ত্রণা ছটফট করছে সে, মৃত্যু তার

আসম্ন। ছুঃখে দিশাহারা ম৷ মনির, মস্জ্দি বা গির্জার চৌকাঠে সমস্ত রাত মাথা খুঁড়লেও ঈশ্বরের করুণ! হবে না। : করুণ! হবে সেইদিন যেদিন কর্কট- রোগের মোক্ষম ওঁধধ আবিষ্কৃত এবং সকলের অধিগম্য হবে। ভল্তেরকে জনৈক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি জিজ্ঞাস। করেছিলেন : “প্রতিবেশীর ছাগল এসে আমার বাগান নষ্ট ক'রে দিয়ে যায় রোজ ; আমি যদি চার্চে গিয়ে নতজাছু হ'য়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থন। করি এঁ-ছাগলটাকে মেরে ফেলতে, তা হ'লে কি তিনি আমার প্রার্থনা শুনবেন ?” ভল্তের বললেন : “প্রার্থনার জোর আছে বৈ-কি, তবে সেই সঙ্গে ছাগলটাকে একটু সেকো বিষ খাইয়ে দিতে তুলে যেয়ে। না যেন ।” ঈশ্বরের দয়া নির্দয়ত। ছুই-ই প্রকৃতির নিয়মের মধ্যেই প্রকাশ পায়। তার বাইরে, তাকে লঙ্ঘন ক'রে, আমার ব্যক্িগত ছুঃখকষ্ট দূর করার জন্য ঈশ্বরের করুণা ভিক্ষা করার মধ্যে একপ্রকার শিশুস্বলভ আবদেরেপনা! আছে ষেট। বয়ক্কের মুখে নির্বোধ আত্মস্তরিতার মতে। শোনায় : “এই বিধানের অবিচ্ছিন্ন স্তরে এই পৃথিবীর ধূলি থেকে নক্ষত্রলোক পর্যস্ত এক সঙ্গে গাথা রয়েছে আমার স্থখস্থবিধার জন্য ষদি বলি “তোমার বিধানের সুত্র এক জায়গায় ছিন্ন ক'রে দাও, এক জায়গায় অন্য সকলের সঙ্গে আমার নিয়মের বিশেষ পাবক্য ক'রে দাও” তা হ'লে বস্তত বল! হয় যে, “এই কাদাটুকু পার হ'তে আমার কাপড়ে দাগ লাগছে, অতএব এই ব্রহ্মণ্ডের মণিহারের এক্যস্থত্রটিকে ছিড়ে সমস্ত সূর্ধতারাকে রাস্তায় ছড়িয়ে ফেলে দাও? ।৮* মায়ের একমাত্র শিশুসস্তানকে ছু:সহ যন্বণা অবধারিত মৃত্যুর হাত থেকে বাচাবার জন্যও ব্রহ্মাণ্ডের মণিহারের এক্যম্থত্রটিকে ছি'ড়ে ফেলতে পারেন ন! বিধাতা বিশ্ববিধাতাকে বিশ্ববিধান থেকে বিচ্ছিপ্ন ক'রে, স্বতন্ত্র ক'রে দেখার চেষ্ট! পদে-পদেই বিড়দ্থিত হবে

ভগবান নিজে পান্থ হ'য়ে পাস্থজনের সখ| হ'তে পারেন, কিন্তু সখাতে-সখাতে খেল! মোটেই “মধুর” নয় : “বারে বারে বাঁধ ভাঙিয়া বন্যা ছুটেছে | দারুণ দিনে 'দিকে দিকে কান্না উঠেছে।” গ্রীষ্টীয় ধর্মশান্ত্রে ঈশ্বরকে সহপথিক বল! হয়নি বোধকরি, কিন্তু সহছৃঃবী বলা! হয়েছে একাধিকবার তিনি ধরাতলে অবতীর্ণ হয়েছেন মানুষকে পথ দেখাবার জন্ট শুধু নয়, পথের নিদারুণতম কষ্ট ভাগ ক'রে নেওয়ার জন্যও রবীন্তক্কযথের কাব্যসাঁধন। ঈশ্বরসাধনা অভিন্ন না-হ'লেও

. *শ্ধিধান"” "শান্তিনিকেতন"

পরস্পর-অস্তরঙ্গ, বক্ষলগ্ন। দ্বিবিধ সাধনার মর্মকথা] এই গানে (“নয় মধুর খেলা” ) নিহিত রয়েছে বলে আমার মনে হয়। অন্য-একটি গানে ( “পথে চলে যেতে যেতে কোথ। কোন্খানে” ) এই কথাটাই একটু ভিন্নভাবে বল! হয়েছে আরো কত গানে কবিতায় নাটকে

পূর্বোক্ত ছুটি গানের ছুটি পঙক্তি (“কত বার ঘে নিবল বাতি, গর্জে এল ঝড়ের রাতি / সংসারের এই পৌোলায় দিলে সংশয়েরই ঠেলা” এবং “সহস। দারুণ ুখতাপে কল ভুবন যবে কাপে / সকল পথের ঘোচে চিহ্ন, সকল বাঁধন যবে ছিন্ন” ) রবীন্দ্রমানসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ অবহেলিত দিক উদ্ঘাটন করে। এই দ্িকটাকে চোখের সামনে রাখলে রবীন্দ্রকাব্যসাহিত্যের যে-চিত্রটি ফুটে ওঠে, বমান গ্রন্থে তার দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছি অবশ কাব্য- ভাষার আভাসে-ইঙগিতে যা ছিলে! কুগ্ঠায় অবগুন্তিত, গছ্যের অকুঞ নির্লজ্জ ভাষায় তার ঘোম্টা খুলতে গেলে সন্দেহ হ'তে পারে -_সেই মুখ দেখছি তে।? এতখানি শ্প্ি ভাষায় ঠিক একই কথ বলা যায় না। কিন্ত আমার উদ্দেশ্য ভাষাস্তর নয়, ব্যাখ্যান বা বিস্তার নয়। উদ্দেশ্ট ছিলে। রবীন্দ্রনাথের গান কবিতা নাটকের পিছনে যে-জগংনিরীক্ষা এবং ঈশ্বরভাবনার পটভূমিকা কখনো স্পষ্ট-গোচর কখনো৷ আবদ্ধ! রয়েছে, তারই স্বরূপ-সন্ধান।

স্বীকার করাই ভালে। এবং বল হয়তো বাহুল্য, যে-রবীন্দ্রনাথকে আমি মর্মে মর্ষে পরম আত্মীয় বলে জেনেছি, “চিরসখা” ব'লে ভালোবেসেছি, তারি কথা বলতে উৎসাহ বোধ করেছি এখানে | জানি আমার রসবোধ যৃল্যবিচারের পরিপ্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথের সবখানি ধর! দেয় নি। ধারা কড়ি ক্চোমল'-এর প্রথম চতুর্ঘশপদীতে (“মরিতে চাহি না আমি স্থন্দর ভুবনে / মাঁদবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই”, ), বা “নৈবেগ্ঠ*এর প্রথম গানে (“প্রতিদিন আমি হে জীবনম্বামী / দাড়াব তোমারি সম্মুখে”), বা 'আরোগ্য'এব দশ-সংখ্যক কবিতাতে (“শত শত সাহ্রাঙ্জের ভগ্রশেষ-পরে | ওরা কাজ করে” ) রবীন্দরকাব্যের যূল হ্থরটি শুনতে পান, তীাদ্দের হৃদয়মনের তন্তজালে ভিন্ন রবীন্দ্রনাথ ধরা দেবেন আমি রবীন্দ্রনাথের যতটুকু পেয়েছি আমার ভাবনায় বেদনায় তাতেই আমি ধন্য হয়েছি সে-ধন্যতা। যদি আরে! পাঁচজনের সঙ্গে ভাগ ক'রে নিতে পারি তবে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে। এই অনেকাস্ত কদর অন্যান্য অস্ত ( ৪১০৪০০৫)

ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে, পরেও হবে। সেইখানে তাঁর এঙ্বর্ব, আমাদের সৌভাগ্য সব অস্ত হয়ত কোথাও গিয়ে মিলেছে তার বহুবর্ণাঢ্য কবি-স্বরূপের গভীরে ; কিন্তু এক্য খুঁজতে গিয়ে আমর! যেন বৈচিত্র্য না হারাই রবীন্দ্রনাথ শিল্পী, দার্শনিক নন। উপরস্ত, জৈন দার্শনিকরাও ছিলেন অনেকান্তবাদী। সত্য (1581105 ) যদি অনেকাস্ত হয়, তবে কবি তার অনুভূতি নিরীক্ষা! সত্যের একটি মাত্র অস্তের উপর সন্নিবন্ধ রাখলে চলবে কেন। সে কবিকে আমরা, অসম্পূর্ণ তথা গৌণ কবি বলব না কি?

পূর্ব প্রকাশিত গ্রস্থ “আধুনিকতা৷ রবীন্দ্রনাথ'-এ দু-তিন জন প্রতিভাবান এবং পাশ্চাত্য কাব্যে আধুনিকতার পথিকুৎ কবির দৃষ্টির একাস্তিকত। বিষয়ে আমার মনোক্ষোভ ব্যক্ত করেছিলাম সমগ্র বিশ্বত্রঙ্মা্ড জুড়ে তার কেবল বীভৎসা একঘেয়েমিই দেখতে পেলেন ; আর-কিছু দেখবে। না _-এই ছিলে! তাদের তপন্তা | লেখক এবং পাঠক উভয়ের পক্ষে ছুঃখজনক সে-তপস্তা আর কিছু নেই কোথাও, সবই ধূসর, সবই ন্তন্কারজনক--এই ছিলে! তাদের দাবী একজন তরুণ কবি বললেন তার গুরুস্থানীয় প্রবীণ কবি সম্পর্কে - তিনিই কবিদের রাজা, তিনি সত্যব্রষ্টা। একদেশদশিতাকে সত্যদর্শন বল! শুধু বিভ্রান্তিকর নয়, হানিকরও বটে | আমি নৈতিক ক্ষতির কথা এখানে তুলছি না, যদিও শেষ পর্বস্ত তার সম্ভাবন7ও কম নয়। নীতিশিক্ষা-দান কবির পক্ষে পরধর্ম, তবু সাহিত্যের আলো ব! ছায়া অলক্ষ্যে পড়ে পাঠকের নীতিবোধের উপর। আমি বলছি নান্দনিক ক্ষতির কথ৷ | আমরা মহৎ কবির কাছ থেকে প্রত্যাশা, করি অন্কভৃতির স্ুম্্রতা, প্রশস্ততা, উদারতা; যদি পাই অন্ভূতির সংকীর্ণতা তিক্ততাই তবে ক্ষোভ করবে! বৈ-কি। কী আশ্চর্য সে-অন্ভূতির প্রকাশ _ অবস্থাই যোগ করবে৷ শ্রদ্ধার সঙ্গে। কিন্তু শুধু রূপের পরোৎকর্ষে কোনে! কবির রচন। মহত্বের শিরোপা! লাভ করতে পারে না। যেমন ফোনো-কোনে। অপরূপ হুন্দরীকে দেখে আমাদের মনে ক্ষোভ জাগে - এমন অপরিমেয় যার দেহের রূপ তার ব্যক্তিত্বের স্বরূপ এত ছোটে! মাপের কেন?

এই অনুষঙ্গ এবং এরই গ্রতিতুলনায় রবীন্দ্রকাব্যালোচনার অবতারণা

89

করেছিলাম রবীন্দ্রনাথ কেবল শুভ স্থন্দরকেই দেখেননি, কেবল “আনন্দ, মঙ্গল গুপনিষদিক মোহ” বিস্তার করেননি তার যাট বছরের কাব্যরচনায়,, আরে। অনেক-কিছু দেখেছিলেন এবং দেখিয়েছেন আমাদের | “আধুনিকত!। রবীন্দ্রনাথ-এ এই কথাটা সবিস্তারে বলতে হয়েছিলো আমাকে সাক্ষীসাবৃদ্দ উপস্থিত ক'রে তার কতকটা এ-বইতেও উপ.চে এসে পড়েছে ছু-চার জায়গায় _ কোথাও ইচ্ছায়, কোথাও অনিবার্ধত। ইচ্ছা, কারণ যেখানে আগের বইতে সে-কথার আলোচনা বড়ো সংক্ষিপ্ত অসম্পূর্ণ ঠেকলো।, এবইতে তা আরো একটু বিস্তৃতভাবে বলবার চেষ্টা করেছি। কোথাও-বা. পূর্বালোচিত প্রসঙ্গ এখানেও এত প্রাসঙ্গিক ছিলে। ষে সেটাকে বাদ দিতে গেলে যুক্তিতে ফাক থেকে যেতো ছুটি বইয়ের কোনো-কোনো! অংশ পরস্পর-সম্পূরক তবু আশ! করি বক্তব্যের খুব একটা পুনরাবৃত্তি ঘটেনি কারণ প্রথমত, অনুষঙ্গ উদ্দেশ্য এখানে ভিন্ন, এবং বিতর্কমূলক নয়। দ্বিতীয়ত, চার-পাচ বছরে নতুন-কিছু শিখবার বুঝবার ভাববার অনুভব করবার অবকাশ পেক্সেছি আমি এ-বয়সে আবার নতুন ক'রে শ্রেখ! | হ্যা, এ-বয়সেও। ভাঙা শরীর নিয়ে ঈাতে দাত চেপে আমাকে তো এগিয়ে চলতেই হবে। স্ত্‌পীকৃত বিদ্ অগ্রাহথ ক'রে যে-কোনে! আধ্যাত্মিক সাধনার পথে বিজ্ঞান, দর্শন, শিল্পসাহিত্য, সমাজসংস্কার, ধর্মবোধ - মানুষকে এগিয়ে চলতেই হয়। থামা (সাময়িক বিরামের কথা বলছি না, বলছি ব্যক্তি বা জাতির জীবনে দীর্ঘদিন গতিরহিত অবস্থার কথ!) মানে প'ড়ে যাওয়া, পতন মানে মৃত্যু, জীবনে মৃত্যু এমন জীবন্ম'তকে লক্ষ ক'রেই কি কবি গান বেঁধেছিলেন “হায় পথবাসী, হায় গতিহীন, হায় গৃহহারা” ?

2

রস্থরচন| প্রকাশনায় যে-ক'জনের কাছ থেকে সাহাহা পেয়েছি ভাবের যধ্যে গৌরী আইমুষের নাম সর্বাগ্রে উল্লেখধোগ্য সবচেয়ে ফ্রাত্তিকর বিরক্তিকর যে-কাজ তাতেও তার ক্লাত্তি বা! বিরক্তি ছিলো না। লেখার অনেক অংশ আমি একাধিকবার সংশোধন করেছি, একাধিকবার তাকে কপ্সি করতে হয়েছে ; তদুপরি প্রুফ দ্বেখ!। আমার দু-একটি বন্তব্যে তার আপতি ভিলো। (বিশেষত 'হ্াষার চরিত্র-বিশ্লেষণে ); তার উত্তর নিবন্ধেই দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপত্তি তবু খণ্ডিত হয়নি বোধ হয়। শ্বপন মজুমধ্ধার প্রকাশনার প্রায় সব ঘায়িত্ব গ্রহণ ক'রে তার অনেক মূল্যবান সময় আমাকে দান করেছেন তার কাছে আমি বিশেবভাবে খণী। |

“নুচনা' বাতীত এ-বইয়ের সব অধ্যায়ই 'ঘেশ' পত্রিকার সাপ্তাহিক বা বিশেষ সংখ্যায় প্রক'শিত ' হয়েছিলো গেল চার বছরের মধ্যে। বইয়ের পাওুলিপি তৈরী করতে গিয়ে সংশোধনের প্রয়োজন বোধ করেছি অনেক জারগায়,বেশ-্থানি কট। যোগ বিয়োগও করতে হয়েছে কোথাও-কোথাও।

কয়েকটি উদ বয়ে উদ্ধৃত করেছি বাংল! হরফে স্বরবর্ণের উচ্চারণ হিন্বীর মতন হবে; বথা, 'হৈ' শোনাবে বাংল! “হায়'-এর মতন -'হঃয়'-এর আকারটি অবশ্য হৃন্ঘভাবে উচ্চারিত হবে। অ-কার সর্বত্র ইংরেজী ০০৮এর ছ-র মতো: যথা, ণজন্ৎ-110006, 1101006 নয় | “স*৪, “শ'-৪) | উহ্ঘ ভাষার কণ্ঠাধবনি (€০692%] ৪০৪০৫) বাঙালী কণ্ঠে সহজে আসে ন!। গালিব এবং ইকবাল -- সবচেয়ে বিখ্যাত ছু-জন উদ কবির নামের প্রথম বাঞ্জনবর্ণদ্রটি হিন্দু-মুসলমান . নিধিশেষে প্রায় সব বাঙালিকে “গলদখন ঘামায়”

চে

পাশ্ছথু জনের সখা।

রবীন্দ্রনাথের ছুঃখের গান ( কল্যাণীয়। নীলিম। সেনকে শ্রন্ধাঞ্চলি )

কোনো! দূর দেশের এবং দূরতর কালের এক তরুণ কবি _ অধুন! “অর্বাচীন” ব'লে ঈষৎ অবহেলিত -_ বলেছিলেন : “আমাদের মধুরতম গান তা-ই যাতে ব্যক্ত হয় বিষগ্রতম ভাব ।” রবীন্দ্রনাথকে অবশ্য বিশেষভাবে হুঃখের কবি বলা যায় না, যদিও তার অপরিণত বয়সে প্রকাশিত প্রথম কাব্যসংকলন “সন্ধ্যাসঙ্গীত” ছুঃখবিলাসী, প্রথম প্রতিভাদীপ্ত কাব্য “মানসী'র সুর মোটের উপর বিষণ্নই, “সোনার রা, আর “কল্পনার প্রথম সম্ভবত শ্রেষ্ঠ কবিতাদয় নৈরাশ্যের নিবিড় ছায়ায় ঢাকা। শেষ দশকের কবিতায় ছুঃখের ভাব গভীরতায় বাপ্তিতে অন্য-সব ভাবকে ছাড়িয়ে গেছে তবে তাঁর সবচেয়ে বিশ্ব- বিশ্রুত কাব্যপর্বটি শান্ত, সৌনা, ছু£খের অনুভূতি তখন মধুররসে ডোবা রবীন্দ্রনাথ নিজেও নিজেকে আনন্দের কবি ব'লে ভাবতে বলতে ভালোবাসতেন ; তার প্রিয়তম উপনিষদের শ্লোক বোধকরি “আনন্দাদ্ধেব খন্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে” ইত্যাদি; তার তক্তিগীতির পৌনঃপুনিক বাণী : আনন্দধণর। বহিছে ভুবনে | দিনরজনী কত অমুতরস উলি যায় অনন্ত গগনে কিংবা : জগতে আনন্দঘজ্জঞে আমার নিমন্ত্রণ ধন্য হল, ধন্য হল মাঁনবজীবন। রবীন্দ্রনাথের এই ভাবচ্ছবিটি সাধারণ পাঠক সমালোচকের চিত্তে বেশ উজ্জল রেখায় আকা রয়েছে অযথার্থ নয় এ-ছবি, বিশেষত গানের ক্ষেত্রে, এবং এই প্রবন্ধের বিষয় রঈন্দ্রনাথের গানই তার | পাস্থ- |

আনন্দের গান বৈচিত্র সংখ্যায় ছঃখের গানকে ছাড়িয়ে গেছে, তথ্য হিসাবে এট! মানতেই হবে। কিন্তু আর্টের বিচারে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব সামান্তই | সংখ্যায় কম হ'লেও গুণের দিক থেকে রবীন্দ্রনাথের ছুঃখের গানই অগ্রগণ্য _ অন্তত আমার মূল্যায়নে কেন ছঃখের গান আমার মনকে, খুব সম্ভব আরো! অনেক শ্রোতার মনকে, নাখভভাবে স্পর্শ করে -_সে-প্রশ্নটি আপাতত এড়িয়ে গেলাম একটি সহজ উত্বর _ছুঃখ দিয়েই যে আমাদের জীবন গড়া এবং জীবনের প্রতিবিম্বই তো. আর্ট-আমার 'মনঃপুত নয়। কে হিসাব ক'রে বলতে পারে কার জীবনে হুঃখের পরিমাণ স্থুখের চেয়ে বেশি না কম। সমস্তাট। ভিন্ন জানি না কেন ছুঃখের প্রতি আমাদের মর্যাদাবোধ গভীর | রবীন্দ্রনাথ তার হুর্ভডাগিনী কন্তার চূড়ান্ত হুঃখের মুহুর্তে বলেছিলেন : তোমার সম্মুখে এসে, ছুর্ভাগিনী, ঈাড়াই যখন নত হয় মন।

এমন কথা কি তিনি বলতে পারতেন কোনো চিএ চরম স্থখের মূহুর্তে? হুঃখের শ্রদ্ধেয়তার কারণ কি তবে এই যে হুঃখের হাতুড়ি দিয়ে পিটে-পিটে মানব চরিত্র গঠন কর! হয় এই মত্যধামে, গঠন করেন বাউলদের সেই “নিঠুর দরদী”? অথচ কোনো-কোনো হুঃখ ( যথা আযাসিডে পোড়া" মুখ বা অনারোগ্য সংক্রামক কুষ্ঠ ), এবং সব ছুঃখই একটা! মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে, ছুঃখীর চরিত্রকে পাথরে খোদাই- কর! দেবপ্রতিমার মতন সুন্দর তো করেই না, বরঞ্চ আরো ছল কুশ্রী ক'রে ফেলে এটি মানবজীবনের একটি গভীর জিজ্ঞাসা তাই বলছিলাম আপাতত থাক্‌ সে-প্রশ্নপরম্পরা

রবীন্দ্রনাথের বেল! শেলীর উদ্ধৃত পংক্তিটি মোটের উপর যদিও

সত্য তবু এইসব অবিস্মরণীয় হুঃখের গানের রচয়িত৷ যেহেতু রবীন্দ্রনাথ, তাই ছু-একটি ব্যতিক্রমুদ্ছাড়া অনুভূতির কালিমা কোধাও শিরেট নয়, অন্ধকার ঘন হ'লেও অভেদ্য ময়, কোনো-কোনো গানে ছুঃখের পার

'দেখা নাঁগেলেও তার স্গিগ্ধ পবিত্রতা অনুভব করা যায়, কোনো! গানই বিশ্ববিধানের প্রতি ক্রোধ, দ্বৃণা, তিক্ততা বা বিদ্রোহের ভাব জাগায় না আমাদের মনে মানববিধানের কথা৷ আলাদ। কিন্তু যে-সব গানে ব! কবিতায় কবি মানবিক -বিশেষত সামাজিক বা! রাষ্ট্রজাতিক - অন্যায় অত্যাচারের প্রতি অবিমিশ্র ধিক্কার বর্ষণ করেছেন, সেগুলি স্বভাবতই নান্দনিক স্তর থেকে স'রে গেছে নৈতিক স্তরে _ যথা নৈবেছ্'-এর

* অন্যায় যে করে আর অন্তায় যে সহে / তব দ্বণা যেন তারে টি হে”, এবং “প্রান্তিক'-এর ১৭ সংখ্যক কবিতা

গোড়াতেই ব'লে রাখা ভালে। যে রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন ভাবের গানের মধ্যে যেমন ছুঃখের গানই আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে, তেমনি তার বহুবিচিত্র স্বপ্টিক্ষেত্রের মধ্যে গানের ফসলকেই আমি সবচেয়ে মূল্যবান এনং কালজয়ী জ্ঞান করি। অবশ্য আমি ভুলে যাচ্ছি না যে রবীন্দ্রনাথের গান কথাপ্রধান, স্ুরপ্রধান নয় তার একটি কারণ স্পষ্টত এই যে রখীন্দ্রসঙ্গীতের সুরকার পৃথিবীর মহত্তম কবিদের অন্যতম অতুলপ্রসাদও উচুদরের ুরত্রষ্টা এবং রবীন্দ্রনাথের স্থুরশৈলীর খুব কাছে এসেও আপন বৈশিষ্টে সমুজ্জল | কিন্তু তার গানের কাব্যশক্তি এই সীমিত যে কথার দিকে মনোনিবেশ ঘটলে খানিকট। রসভঙ্গ হয়। প্রায় সব মার্গসঙ্গীতে কথা এমন সোচ্চারভাবে অকিঞ্চিংকর যে সেদিকে মনোযোগ.দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, মনে হয় যেন কথা ছেস্ত বাখা। প?রে ভিখারী সেজেছে নিজেকে আড়ালে রেখে রাগরাগ্নিনীর রাজকীয় এশ্বর্ষ প্রকাশ করবার জঙ্য | রবীন্দ্রসঙ্গীতে সুরের শিল্পোৎকর্ষ ব্যপ্রনাশক্তি সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ নেই, তবু বলবো সুর সেখানে রথ, সারথী নয়, কথার স্মক্ষ ব্যপ্তনা আদিগন্ত বিস্তার হৃদয়ের গভীরে পৌছিয়ে দেওয়া! তার কাজ। অবশ্য এমন কিছুসংখ্যক গানও রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছেন যাতে কথা স্থুর পরস্পরস্পর্ধী। আমাদের মুগ্ধ মনোযোগ গোড়ার দিকে দোল খেতে থাকে কথা৷ থেকে সুরে, সবুর থেকে কথায়,

দুটি

এবং রসাম্ৃভূতি চরমে পৌছয় তখনই যখন গীতশিল্পলের ছুই অঙ্গে আমর আর ভেদ দেখতে পাই না, উপলব্ধি করি একই দেবতার মহিমা, যিনি একাধারে হরি এবং হর। সম্ভবত এগুলিই তার সর্বোৎকৃষ্ট গান উদাহরণ দিতে গিয়ে মনে জাগে “চিরসখা হে, ছেড়ে! না মোরে ছেড়ো। না” “আছ অন্তরে চিরদিন”, “এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ”, “কী রাগিনা বাজালে হৃদয়ে” আবার এমন গানও তিনি রচনা করেছেন যাতে সবরের শক্তি অসাধারণ হ'লেও কথার প্রাধান্য অনস্বীকার্য উদাহরণ : “শুধু তোমার বাণী নয় গে হে বন্ধু, হে প্রিয়”, “সকল জনম ভ'রে মোর দরদিয়া”, “আরো আঘাত সইবে আমার”, “চিনিলে না আমারে কি”, “আহ! তোমার সঙ্গে প্রাণের খেলা” ইত্যাদি আমার ব্যক্তিগত পক্ষপাত এদের দিকেই, হয়তো এইজন্তেই যে আমি সুরের চেয়ে কথ! অনেক বেশি বুঝি এবং একটু বেশি ভালোবাসি রবীন্দ্রনাথ একাধিকবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে তার গান গাই- বার সময়ে কণ্ঠশিল্পীরা যেন স্থরের খাতিরে কথার অমর্যাদা না করেন। ধার! প্রধানত সুরের রসিক সাধক, কথার প্রেমে পড়তে শেখেননি, তার! গায়কই হ'ন আর শ্রোতাই হ'ন, রবীন্দ্রসঙ্গীত তাদের জন্য নয় “আকাশে বিছ্যুতবহ্ি / অভিশাপ গেল লেখি”, “হায় মম পথ-চাওয়া। বাতি / ব্যাকুলিছে শৃন্যেরে 'কোন্‌ প্রশ্মে”্ “আমার না বলা বাণীর ঘন যামিনীর মাঝে / তোমার ভাবনা তারার মতন রাজে'” “প্রভাত আলোরে মোর কাদায়ে গেলে”, “রজনী মুচ্ছাগত বিদ্ুৎঘাতে” “আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান”, “আজি প্রাণের রুদ্ধ দ্বারে / ব্যাকুল কর হানি বারে বারে”, “প্রেম এসেছিল নিঃশব্দ চরণে” “দিনগুলি মোর এমনি ভাবে / তোমার হাতে ছিড়ে ছিড়ে হারিয়ে যাবে”? “হাল- ভাঙা, পাল-ছেঁড়৷ ব্যথা চলেছে নিরুদ্দেশে”- এমন শত-শত পংক্তি রবীন্রনাথের গানে ছড়া! রয়েছে ধারা তার অলৌকিক শক্তি রক্তের শিরায়-শিরায় অম্ুভব করেন না, এবং সেই অনুভূতিকে কম্বরের

'দ্রদে শব্দের মমতাপূর্ণ উচ্চারণে ফুটিয়ে তুলতে পারেন না, পারার আবশ্াকতা পর্যস্ত বোধ করেন না, তাদের গলা যতই পরিশীলিত হোক্‌ এবং সুরজ্কান প্রশ্নাতীত, রবীন্দ্রনাথের গানে তার! প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। শুনেছি রূপালী পর্দার কিংবা আধুনিক গানের এইসব নামজাদ। গায়কর। নাকি রবীন্দ্রসঙ্গীতকে জনপ্রিয় ক'রে দিয়েছেন জনপ্রিয়তা অর্জন করবার জন্য যদি আপন সত্যমূল্য এবং অমূল্য বৈশিষ্ট্য 'হারাতে হয় তবে রবীন্দ্রনাথের গান অতথানি জনপ্রিয় নাই-বা হ'লো।

প্রতিভাবান শিল্পী এবং সাধারণ শিল্পরসিক ।উন্নতলে- বাসিন্দা_ এটা অস্বীকার করবার জো নেই শিল্পী যদি কয়েক ধাপ নেমে আসেন তবে তিনি তার সামাজিকতারই পরিচয় দেবেন শিল্পকর্মকে খাম- খেয়ালী বা কালোয়াতি (০186-0501515150 ছুবোধ্যতার শিখরে তুলে নিয়ে যাওয়াতে শিল্পীর গৌরব বাড়ে না। রসগ্রাহীকেও কিন্তু কয়েক ধাপ উপরে উঠবার পরিশ্রম স্বীকার করতে হবে ম্থুরুচি সহৃদয়তা জন্মস্থত্রে কেউ লাভ করে না; কৃষিক্ষেত্রে যেমন, কপ্রিক্ষেত্রেও তেমনি কঠিন নিয়মিত ভূমিকর্ষণ অত্যাবশ্যক একপক্ষের অভিমান একটু কম এবং অন্যপক্ষের সাধন! একটু বেশি হোক্‌, এই আমার আবেদন রবীন্দ্রনাথের প্রতিভা এতই উত্তুঙ্গ ছিলে! যে কয়েক ধাপ নেমে আসতে তার আস্মনর্ধাদায় বাধেনি, স্থপ্টিকর্মেরও তাতে কোনে ক্ষতি হয়নি তাকে একেবারে ফিলমী বা আধুনিক গানের সমতলে নামি আনার চেষ্টা সকলের পক্ষে ক্ষতিকর নিন্দিত হোক এঅপচেঙ্গী

হুঃখের গান রবীন্দ্রনাথ কম রচনা করেননি সর্বপ্রথমে সেই গানের কথা বলি যাতে হুঃখের অনুভূতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সর্বজাগতিক ; যাতে কবির অথবা যে-কোনো বিরহীর অন্তর্বেদনা একাকার হয়ে মিলেছে বিশ্ববেদনার সঙ্গে, এবং সারা জগতের বেদনা একটি বাক্তির হৃদয়ে জমাট বেঁধে অসাধারণ তীব্রতা লাভ করেছে :

অশ্রুভর] বেদন! দিকে দিকে জাগে আজি স্টামল মেঘের মাঝে বাজে কার কামন। চলিছে ছুটিয়া অশান্ত বায়,

ক্রন্দন কার তার গানে ধ্বনিছে - করে কে সে বিরহী বিফল সাধন।

আমাদের মনে ছবি জাগে এমন এক ভাগ্যহতের যার বিরহ কোনো' কালে শেষ হবার নয় ; সে-বিরহের কারণ প্রিয়ার মৃত্যুও হ'তে পারে, অথব৷ প্রাকৃতিক বা স'মাজিক বাধা-ঘটিত এমন বিচ্ছেদ য৷ মৃত্যু চেয়ে কম দুঃসহ নয় সঙ্গে-সঙ্গে আর-একটি ছবিও জেগে ওঠে ঠিক ছবি নয়, কারণ এই দ্বিতীয় ভাবটি -চিত্রগ্রাহা নয় বরঞ্চ মনে হয় প্রথম চিত্রটি প্রতীকমাত্র। পারমাধিক পুর্ণত। এবং পার্থিব অপূর্ণতার মধ্যে অপার বিচ্ছেদ মিলন প্রত্যাসন্ন নয়, সহজসাধ্য নয়, আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়েও সন্দেহ উপস্থিত হয়। তাই কামনা এমন ব্যথাতুর, ব্যথা এমন মর্মস্তদ এবং দিগন্তব্যাপী। এ-যস্্রণা জগং-্যষ্টিরই প্রসব- যন্ত্রণা “ছুঃখ” শীর্ষক প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন -_ “ছ্ঃখের যত প্রকার ব্যাখ্যাই করি না কেন, ছঃখ তে। ছুঃখই থাকিয়া যায় না থাকিয়া যে জো নাই। ছুঃখের তত্ব আর স্থষ্টির তত্ব যে একেবারে এক সঙ্গে বাধা কারণ অপুর্ণতাই তো ছুখ এবং স্থস্তিই যে অপূর্ণ ।৮

জগতের মধ্যে যে নানা দোষক্রটি কুশ্রীতা-কদর্ধতা-কর্কশতা৷ রয়েছে তা রবীন্দ্রনাথ অস্বীকার করেন না। বিশ্বের একতান সঙ্গীত রচিত হয়নি এখনে ; সবরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সমস্ত বেস্থরকে বুকে টেনে নিয়ে সঙ্গীত-রচনার মহড়া চলছে জগৎ জুড়ে, ইতিহাস জুড়ে মাঝে- মাঝেই তার ছিড়ে যায়, তাল কেটে যায়। স্বাধীন মানুষ এবং সমস্থ মানবসমাজ গ'ড়ে তূলবার পথে এমন পরতগ্রমাণ বিদ্ব এসে উপস্থিত হয় যে আমরা শিউরে উঠে ভাবি এতকালের সব সাধনাই বুবি বিফল হয়েছে, সব পথই হাফ্ষিয়ে গেছে চির অন্ধকারে

উপনিষদ বলেন, ব্রদ্ম তগস্তার দ্বার! জগৎ স্থষ্টি করলেন। রবীন্ত্-

নাথ বলছেন, সে-স্থ্টি কোনো ধারাবাহিক মহৎ উপস্তাসের মতে। এখনো। ক্রমশ প্রকাশ্ঠ, বরঞ্চ বল! উচিত ক্রমশ লেখ্য। ক্রিষ্ট রচনার পংক্তির পর পংক্তি কেটে দেওয়। পাতাগুলি, একটার পর একটা বাতিল-করা খসড়াগুলি বিশেষভাবে দেখা যায় মানুষের মধ্যে, মানবসমাজের মধ্যে তাই তপন্যাও চলছে এবং তপস্ঠা-নিঃস্থত বেদনারও শেষ নেই সেই বেদন “চঞ্চল বেগে বিশ্বে দিল দৌলা” তবে কি তপস্তা! ক্রমশ শিথিল *হ'য়ে আসছে এবং বেদনা বদ্ধমূল সর্বব্যাপী ? না, অতখানি নৈরাশ্য- বাদী নন রবীন্দ্রনাথ “অশ্রভরা বেদনা” “বেদনা! কী ভাষায় রে” গানছুটিতে ভাবগত এঁক্য আছে, ছুটির বেদনাই জগংজোড়। কিন্তু প্রথমটি অশ্রুভরা বেদনাতে শুর এবং শেষ দ্বিতীয় গানের শেষে শুনি : মনোমোহন বন্ধু

আকুল প্রাণে পারিজাতমাল। সুগন্ধ হানে

কিছুই দেখা যায় না, কিছুই বোঝা যায় না, তবু আকুল প্রাণে কোথ! থেকে যেন সুগন্ধ আসে, জাগিয়ে তোলে আমাদের ভাবযিত্রী কারয়িক্রী শক্তিগুলিকে, বাঁচিয়ে রাখে বেঁচে থাকার _মানুষ হ'য়ে বেঁচে থাকার - ইচ্ছাটাকে একে বলা যায় ৮০০০ সারি ভাব। এরই অন্যতম এবং উৎকৃষ্টতর উদাহরণ : সহস। দারুণ ছুখতাপে সকল ভূবন যবে কাপে, সকল পথের ঘোচে চিগ্ছ সকল বাধন ষবে ছিন্ন মৃত্যু-আঘাত লাগে প্রাণে - তোমার পরশ আসে কখন কে জানে কচিং-কখনে। অন্ধকার আরো ঘন হয়েছে, নৈরাশ্য আরো হরভিভব, আরে হবিষহ অনেক বেশিসংখ্যক গ্লানে অবশ্য আনন্দর্ধার বায়ে চলেছে - প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে আদ্ন্দ, মানুষের অপরাজেয়

গু

শক্তিতে আনন্দ, ঈশ্বরের অনস্ত মঙ্গলবিধানে আনন্দ। কিন্তু সখ্যা গণনার দ্বারা তো! কবির মনের সত্য পরিচয় পাওয়। যায় না। তাই আমি বলতে সাহস পাই যে গীতিরচয়িতা রবীন্দ্রনাথের হুৃদয়মন যে ছুই প্রত্যন্ত রেখার মধ্যে দোছ্ল্যমান ছিলো, তাদের মধ্যবর্তী সুস্থিতি-বিন্দু অধিকার ক'রে আছে উপরে অংশত উদ্ধৃত হৃদয়গ্রাহী গানটি (“পথে চলে যেতে যেতে কোথা! কোন্ধানে” )। বিপরীত নাটকীয় পরিস্থিতি এবং অনুভূতির রূপকল্প (28006102)] দেখি “তরী আমার হঠাৎ ডুবে যায়” গানটিতে ছুঃসহ হুখ-আঘাতে নৈরাশ্মটের অন্ধকার ষখন এত ঘন যে.“সকল পথের ঘোচে চিহ্ন” তখন যেমন সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে সান্ত্বনা শাস্তি নেমে আসে, তেমনি যখন সবই শুভ সুন্দর মধুর, কোনো দিক থেকে বিপদপাতের লেশমাত্র সম্ভীবন। নেই, সমস্ত আকাশ নির্মল নীল, জল অগভীর, নিস্তরঙ্গ _ ঠিক তখনই : | তরী আমার হঠাৎ ডুবে যায় কোন্খাঁনে রে কোন্‌ পাষাণের ঘায়। নবীন তরী নতুন চলে, দিই নি পাড়ি অগাধ জলে _ বাহি তারে খেলার ছলে কিনার-কিনারায় ভেসেছিল শ্রোতের ভদ্বে, একা ছিলেম কর্ণ ধ'রে _. লেগেছিল পালের "পরে মধুর সু বায়। স্থথে ছিলেম আপন মনে, মেঘ ছিল না গগনকোণে _ লাগবে তরী কুস্মবনে ছিলেম সেই আশায় যে-পাষাণের ঘায়েই হোক্‌ তরী হঠাৎ ডুবে যাচ্ছে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগিয়ে- কোন্‌ তরী, কিসের প্রতীক এ-তরী ? মনে তো হয় কোনো ব্যক্তিগত ছোটোখাটো আশা-আকাঙ্ক্ষার তরী গানের ইঙ্গিত আরো অতল-গভীর, নিমেষে জীবনের কোনো প্রান্তিক পরি- স্থিতির উদ্বেগ জাগিক্সে তোলে শ্রোতার হ্ৃদয়-মনে মানবজীবনের সবচেয়ে বড়ো আশার তরী ডুবে যাওয়ার ট্র্যাজিক চিত্রই ফুটে উঠেছে

সে

এই গানে কোনো কঠোর অভিজ্ঞতার আঘাতে জগৎপিতার ফে পিতৃপুরুষাগত স্নেহকরুণাকল্যাণময় মৃতিতে আশৈশব আস্থা রবীন্দ্র নাথের মনে এতদিন সহজ মধুর নিরুদ্বেগ ছিলো, সেই জাগতিক মঙ্গল- বিধানের প্রতি ভরসার তরীখানাই কি আজ হঠাৎ ডুবে যাচ্ছে? সে- তরী ডুবে যাওয়ার অর্থ যে কী মর্মবিদারক, ধার! কীর্কেগার্ডের লেখার সঙ্গে পরিচিত ভারা সহজেই হাদয়জম করতে পারবেন রবীন্দ্রনাথ 'কীর্কেগার্ডের লেখার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন কিন! জানি না, সম্ভবত ছিলেন না। তবে কীর্কেগাডীয় আধ্যাম্মিক যন্ত্রণা তার অজান। ছিলে। না1- এই কথাটাই বলতে চাচ্ছি

“1 03০৭ 00925 17060 230150, 01061) ০৮21: 03815 15 106102010 ৪.৮ না কিন্ত। ঈশ্বর-বিশ্বীন চ'লে গেলেও আমাদের হৃদয়কক্ষে বহুযত্ধে ল'পিড মূল্যবিচারের একটি প্রতিমান থেকে যায়, তার নির্দেশ আমরা এড়াতে পারি না ঠিক সময়ে সে-ই ব'লে দেয় জীবনে, জ্ঞান- বিজ্ঞানে, শিল্প-সাহিত্যে কোনটা হেয় কোনটা শ্রদ্ধেয় সবজনীনতার দাবী সে রাখে না, তবু আমার পক্ষে আমার অন্তরতম মূল্যবিচারই চরম কিন্তু কোনে। নিদারুণ পরিস্থিতিতে এই মাপকাঠিও যদি ভেঙে টুকরো-টুকরে। হ'য়ে যায়, ভালোমন্দ সব একাকার হ'য়ে যায়? সত্য শ্রেয় স্থন্দরের প্রতি যে-অন্ুরাগ শ্রদ্ধা মানুষের জীবনকে নিছক জৈবিকতার গ্লানি থেকে বীচিয়ে রাখে, তার সাময়িক কিন্তু সম্পূর্ণ বিলয় _-সেই অনিবধচনীয় ভয়ঙ্কর সম্ভাবাতার সুখোমুখি দীড়ানোটাকেই বলে “57০00621 101) 15011)18618655” | নাস্তিকতার চেয়েও নিদারুণতর যে চূড়ান্ত নাস্তি, তার সঙ্গে ভীম পরিচয় ভক্ত প্রেমিক রবীন্দ্রনাথের, শুভ্র সুন্দরের বেদীতে আত্মনিবেদিত রবীন্দ্রনাথের যে কখনোই ঘটেনি তা নয়। না-ঘটলে তিনি এত বড়ো কবি হ'তে পারতেন না, তার অভিজ্ঞতার বিস্তার থাকতো ভাববর্ণালির সংকীর্ণতর

সীমার মধ্যে আবদ্ধ হ'য়ে তীর দীর্ঘ কবিজাবন তিনি একই শ্যাম-

তে

ছায়াঘন তীরে ব'্ে কাটাননি, বারে-বারে তার অন্তর্ধামীর কাছ থেকে নোওর তুলে নেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন, পাড়ি দিয়েছেন অজান! ছুর্নাব্য সমুদ্রে ; কখনো-ব! “বীথিকা'র দুর্ভাগিনীর মতন খুঁজেছেন “কাছের বিশ্ব মুহূর্তে যা চলে গেল দূরে” _ এত দূবে যে ভয় হয়েছে টি ডুবে যাবে অতল অন্ধকারে

অন্থুভূতির বিশ্বব্যাপ্তি এবং কস্মিক তাৎপর্য আরে ট্রি অন্া- একটি গানে-। রবীন্দ্রনাথ অভয় ব! নির্ডয়ের গান অনেক বেঁধেছেন? ভয়ের গান বিরল আমি অবশ্য “জয় ক'রে তবু ভয় কেন তোর যায় না” বা “আজি বিজন ঘরে নিশীথরাঁতে আসবে যদি শৃহ্য হাতে / আমি তাইতে কি ভয় মানি” গোছের মধুর কোমল ভয়ের কথা! ভাবছি না» যা প্রেমিক হৃদয়কে সর্বদাই অল্লবিস্তর আন্দোলিত করে ; ভাবছি সেই হবার অন্ভৃতির কথা যা প্রবল বন্যার মতে। সকল বাধ ভেঙে দিগন্ত থেকে দিগন্ত প্লাবিত ক'রে ফেলে :

পথে যেতে ডেকেছিলে মোরে পিছিয়ে পড়েছি আমি, ঘাব যে কী করে। এসেছে নিবিড় নিশি, পথরেখা। গেছে মিশি ; সাড়। দাও, সাড়া দাও আধারের ঘোরে ভয় হয়, পাছে ঘুরে সুরে যত আমি যাই তত যাই চলে দূরে _ "মনে করি আছ কাছে, তবু ভয় হয়, পাছে আমি আছি, তুমি নাই কালি নিশিভোরে

“সাড়। দাও, সাড়া দাও আঁধারের ঘোরে” -এই আত প্রার্থনার মধ্যে আশার প্রকাশ যত করুণ, “আমি আছি তুমি নাই”-তে ভয়ের বাঞ্জন! তার চেয়ে তীব্র আর কী নিদারুণ সে-ভয়- মনকে যতই ভোলাই যে থুরে-ঘুরে তোমার কাছে যাচ্ছি ততই দূরত্ব বেড়ে যায়, অন্ধকার হয় ঘন ; শুধু দৃষ্টির নয়, ধ্যানেরও বাইরে স'রে যাচ্ছ তুমি এই অতল আদিগস্তঅন্ধকারে আমি যর্দি-বা বীচি, আমার প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখবো কেমন ক'রে

১৩

সভনলে দে অয় না-উমীদী, কেম! কেয়ামৎ হৈ, . কেহ. দামনে খেয়ালে ইয়ার ছুট যায় হৈ মৃঝসে। (হে নৈরাশ্ঠ, কী গ্রলয় কাণ্ড! একটু সামলে নিতে দাও, বন্ধুর ধ্যানের আচলের যে শেষ প্রাস্তটুকু ০০০০০০০০০০৪০৪০৪১৪ - )

নৈরাশ্টয আরে৷ নগ্ন, আরে অন্তিম রূপ ধারণ করেছে সেই গানে *চগালিকা'র শেষে যার উপযোগিতা তর্কসাপেক্ষ কেবলমাত্র চগ্ডালি- নীর বি-র অন্ৃতপ্ত বিক্ষোভ প্রকাশ করতে হ'লে এই গানের ব্যঞ্জনাকে অনেকখানি ছোটো ক'রে নিতে হয় “মা ভয় হচ্ছে তার পথ আসছে শেষ হ'য়ে_তার পরে ? তার পরে কী শুধু এই আমি, আর কিছুই না! এতদিনের নিষ্টুর দুঃখ কি এতেই ভরবে? শুধু আমি? কিসের জন্য এত দীর্ঘ. এত ছূর্গম পথ! শেষ কোথায় এর ! শুধু এই জামাতে ?” অথচ গানের প্রতিটি পংক্তি জানিয়ে দেয় যে তার অনুভূতি এর চেয়ে অনেক বড়ো, অনেক গভীর সেইজন্যে বোধহয় আরো কয়েক বছর পরে রচিত “নৃতানাট্য চণ্ডালিক?' থেকে গানটিকে বাদ দেওয়া হয়েছিলো :

পথের শেষ কোথায়, শেষ কোথায়, কী আছে শেষে এত কামণ।, এত সাধনা কোথায় মেশে ৮. ঢেউ ওঠে-পড়ে কাদার, সম্মুখে ঘন আধার -+ পার আছে কোন্‌ দেশে। আজ ভাবি মনে মনে, মরীচিকা-অন্বেষণে বুঝি তৃষ্ণার শেষ নেই -মনে ভয় লাগে সেই, হাল-ভাঙা পাল-্রঁড়া ব্যথ|। চলেছে নিরুদেশে

এ-পথ জীবনেরই পথ, কিন্তু জীবনমাত্রের নয়, উদ্দেশ্থাবিহীন, ক্ষণবিলাসী, প্রাত্াহিকতার স্রোতে ভেসে-যাওয়া জীবনের পথ নয়। ঘে-পথের শেষ কোথাও নেই ব'লে রবীন্দ্রনাথের মনে ব্যাকুলতা নৈরাশ্টের উদয় হয়েছে এ-গানে, তা নিশ্চয়ই পরমের দিকে এগুবার পণ,

১১

'পরমেশ্বরকে পাওয়ার পথ। এই পথে চলাকে মরীচিকা-অন্বেষণের সঙ্গে তুলনা করার অর্থ কি এই যে রবীন্দ্রনাথের মনে ব্যথিত ব্যাকুল সন্দেহ জেগেছে হয়তো ঈশ্বরকে ভুল পথে সন্ধান করেছেন এতদিন ; নাকি ভয়ের কারণ আরো গভীর ? ভুল পথে চলেছে বুঝতে পারলে মানুষ ঠিক পথের সন্ধান পেতেও পারে একদিন কিন্তু সে যদি ক্রমশ উপলব্ধি করে যে সব পথই ভূল পথ, তখন তার কী দশ! হবে? সে কি গতিশক্তি হারিয়ে বসে পড়বে পথের মাঝখানে, আর দেখবে তার হাল-ভাঙ। পাল-ছেড়া ব্যথা চলেছে নিরুদ্দেশে, তাকে পিছনে ফেলে ?

“সম্মুখ ঘন আধার”? তাই কাতর প্রার্থন। _হয়তো-ব। বৈদিক প্রার্থনারই অনুরণন :

আর রেখো না ৬, আমায় দেখতে দাও।

স্বপ্রভারে জমল বোঝা, চির জীবন শৃষ্ত খোঁজ যে মোর আলো! লুকিয়ে আছে রাতের পারে আমায় দেখতে দাও

যে-আলোর ক্ষীণতম আভাসটুকুও দেখা যাচ্ছে না, তারই সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা স্থাপন ক'রে বলছেন, “যে মোর আলো” কিন্তু সে-আলো লুকিয়ে আছে তো৷ রাতের পারে? খোঁজা কি কোনোদিন শেষ হবে, রাত্রিকি কখনো প্রভাত হবে ? “শুন্য খোজ।” _কী ভয়ানক তার গ্োতন। | হতাশ! কতদূর মর্মঘাতী হ'লে মানুষ বলতে পারে _ খুঁজবার উপযুক্ত কোনে লক্ষ্যই খুঁজে পেলাম না, তাই শুম্কেই খুঁজছি এ-খোজার শেষ হবে না শুধু তাই নয়, শেষ হবে এমন চিন্তাই আত্মবিখণ্ডিত।

এই ট্র্যাজিক উপলব্ধির সুন্দরতর প্রকাশ বর্ধার একটি গানে গোড়াতেই আমর! অক্টরভব করি সেই আতঙ্ক, যার বিষয় কোনো ঘটন! বা! বন্তবিশেষ নয়, বিষয় শৃন্ুতা, 00013208653 :

সই

শ্যায় দিন, শ্রাবণদিন যায়।

আধারিল মন মোর আশঙ্কায়,

মিলনের বৃথা প্রত্যাশায় মায়াবিনী এই সন্ধ্যা ছলিছে।

আগন্স নির্জন রাতি, হায়, মম পথ-চাওয়। বাতি .

ব্যাকুলিছে শৃন্তেরে কোন্‌ প্রশ্নে রাত্রি এখনো আসেনি, কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে সন্ধ্যার প্রদোযান্ধকাঁর ইতিমধ্যে গা হ'য়ে গেছে মেঘে-বৃষ্টিতে মিলনের কাল অবশ্য রাত্রি, কিন্ত সন্ধ্যার লগ্নেই বিরহিণী বুঝতে পেরেছে যে তার প্রত্যাশ বৃথা, মায়াবিনী সন্ধ্যার ছলনামাত্র। কেমন ক'রে বুঝলো সে? সেকি সন্দেহ করছে যার সঙ্গে মিলনের জন্য সে আকুল, সে শুধু অনুপস্থিত নয়, অবাস্তব, সে-ও সন্ধ্যারই ছলনা, অথব। তারই প্রেম-বিহ্বল মনের অভিক্ষেপ ( 0:0120001)? “ব্যাকুলিছে” ক্রিয়ার প্রয়োগ এখানে অভিনব, অপ্রত্রাশিত, এবং সেই কারণে এত মর্মস্পর্শী রেডিওতে শুঘ্েছি কোনো-কোনে কশিল্পী সম্ভবত ব্যাপারটাকে সহজবোধ্য ক'রে নেওয়ার জন্য গান করেন “মম পথ-চাওয়া বাতি ব্যাকুলিছে শুন্যের কোন্‌ প্রশ্নে ।” “শৃন্টেরে”-কে “শুন্যের” বললে অর্থ যায় উল্টে এবং রসের বারে! আনাই মাটি হয়। নির্জন ঘরে প্রতীক্ষমানা হতভাগিনীর হ'য়ে প্রদীপের কম্পমান শিখা প্রশ্ন করছে-সে কি আসবে না, সে কি বুঝবে না আমার ব্যথা ? কিন্তু বাতিও জানে, প্রশ্নটি কত শর্থহীন; এমন কেউ কোথাও নেই যার কাছে প্রশ্ন পৌছতে পাছে, সাড়। পাওয়া তো অনেক দূরের কথা প্রশ্ন শৃন্যেই হারিয়ে যানে শৃম্তকে ব্যাকুল করার চেষ্টার চেয়ে বৃথা এবং নিক্করুণ আর কোন্‌ চেষ্টা হ'তে পারে।

নাকি কবির মনে এমন অবাস্তব শিশুস্থলভ আশা জাগে যে প্রশ্নের

ব্যাকুলতাই -_যে-ব্যাকুলতা৷ বৃষ্টি-মুখরিত শ্রাবণ সন্ধ্যার পর থেকে তীব্রতর হ'তে থাকবে রাত্রির গভীরতা : সঙ্গে-সঙ্গে - শৃন্ের মধ্যে জাগিয়ে" তুলবে অনস্ত প্রাণ মন হৃদয়, যে-গর্দয়ে হয়তো-বা এই

৯৩.

ব্যাকুলতার সামান্যতম সংক্রাম লাগবে ? অসম্ভব, অসম্ভব তবে অষস্তবের কাছে হার মানেননি এক বিশ্ববিহ্রুত সেনানায়ক, বিশ্ববিশ্রত কবিই-বা পিছিয়ে থাকবেন কেন ?

এই গানটি গীতবিতান'-এ “প্রকৃতি” পর্বায়ের গানের অন্তভূর্ত; প্রেমের গান বললে পরিচয়টা আরো সঠিক হ'তো।। ' আমার কিন্ত ভাবতে ভালে। লাগে গানটিকে ভক্তিরসের গানরূপে বলা বাহুল্য, যে-রবীন্দ্রনাথকে আমি নিবিড়ভাবে চিনি, তার মনের ভক্তি সাধুসস্ত- দের ভক্তির মতো বিশুদ্ধ বিমূর্ত অনির্বাচ্য ভক্তি নয়, অত্যাম্চর্য বচনে প্রকাশ পেয়েছে রলরূপে - যদিও ভুক্তিরস নবরসের তালিকাভূক্ত নয় ভক্তির শ্বাসরোধ ক'রে মাঝে-মাঝে নেমে আসে যে ঘনান্ধকার রাত্রি 05115 17101) 0 016 5০৫1-_ তারই কথা বলছেন রবীন্দ্রনাথ এ-গানে তখন ভক্তের অন্তরের অন্ধকার আর বাইরের অন্ধকার একাকার হ'য়ে যায়: |

নিবিড়-তমিশ্র-বিলুগ্ধ-আশা। ব্যথিতা৷ যামিনী খোজে ভাষা -

মনে হয় মেঘ নয়, ঘন নৈরাশ্টই ঢেকে দিয়েছে আকাশের সব তারা ; নিরালোক যামিনী হারিয়েছে তার সব ভাষা | দিকে দিকে কোথাও নাহি সাড়া, ফিরে খ্যাপা হাঁওয়। গৃহছাড়া ভক্তপ্রেমিকার খ্যাপামি ঘরের শীস্ত হাওয়াকে খেপিয়ে গৃহছাড়। করেছে, কিন্তু ভক্তির ব্যাকুলতা৷ কি দিগস্তব্যাগী শুহ্যে কোনো সাড। জাগাতে পারবে ?

' ভক্ত-ভগবানের সম্পর্ক এক পরমাশ্চর্ধ ব্যাপার প্রেমময় ভগবান খোঁজেন তার মনের মতো! ভক্তকে ; .পিপাসিত ভক্তি খোঁজে তার মনের মতো! প্রার্জুক্ষি খোঁজার শেষ নেই, তবে পথে চলতে-চলতে কিছু তো পায় পান্থজনের!, নইলে অন্ধকার রাত্রিতে উপলবন্ধর রণ্টক-

১১8.

সমাকীর্ণ পথে ক্ষতবিক্ষত পায়ে চলবাঁর শক্তি সে পাবে কোথা থেকে যদি বলি এই কুড়িয়ে বা খু'জে পাওয়ার মধ্যে আবিষ্কারের চেয়ে সির ভাগ কিছু কম নয়, তবে খুব ভুল বলা হয় ন!। প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ তার প্রেমাম্পদকে বলেছিলেন- “অঞ্ধেক মানবী তুমি, অর্ধেক কল্পনা”। ভক্ত কি ভগবানকে বলতে পারেন না -_ অর্ধেক সত্য তুমি, অঞ্ধেক আমারই রচন।? এই রচনার উৎস কিন্তু শিশুমন্ট মানুষের বাসনা-পৃরণ নয়, অস্তত রবীন্দ্রনাথের মতো মানুষের ক্ষেত্রে নয়। দশ হাজার বছর আগেকার মানুষের বা দশ বছর বয়সের বালকের মনের উপাদান দিয়ে আজকের দিনের সংস্কৃতির সর্বোচ্চ শিখরে ধারা আরো- হণ করেছেন, তাদের মন বোঝার চেষ্টায় কতক্টা বৈজ্ঞানিক গোৌঁড়ামি, কতকটা বিদ্বানী ছেলেমানুষী রয়েছে। পূর্বোক্ত “অদ্ধেক আমারই রচনা”র উৎস খু এতে হবে কবি-মনের গভীর জ্বালাময় ব্যাকুলতায়। প্রেমের বেল যেমন অদ্ধেক সত্যের উপরই প্রেমিকের কল্পনা রঙ বোলাতে পারে, শুন্য ক্যানভাসের উপর নয়, ভক্তির বেলায়ও তেমনি মানবিক প্রাকৃতিক জগতের অভিজ্ঞতায় এশী গুণের আভাস না- পেলে ভক্তের ব্যাকুলতা৷